Category: ছড়া-কবিতা

  • দোষ 

    দোষ 

    অমুক তমুক মস্ত পাপী পরের বেলায় বুঝি, নিজের মাঝেও দোষ রয়েছে তা কি মোরা খুঁজি? পরের ভুল ধরতে পেরে লাগে অনেক ভালো, নিজের ভুল ধরিয়ে দিলে মুখটি করি কালো। হয়তো তুমিই সঠিক ছিলে সে ছিল বা ভুল, পরের দোষ খুঁজে পেলেও পিটিয়ো না ঢোল। দোষ করেছে দোষ করেছে প্রচার কোরো না সব, তোমার দোষও গোপন…

  • এভাবেও ফিরে আসা যায়!

    এভাবেও ফিরে আসা যায়!

    মুখের উপর পেরেক মাইরা মুখ করতে চায় বন্ধ সুশীল-সমাজ, বুদ্ধিজীবীরাও চোখ থাকিতে অন্ধ আপার শাড়ির আঁচলেতে দেশটা তখন জিম্মি বাতাসেতে উড়ে বেড়ায় শহীদের রক্তের গন্ধ বিচারের নামে আদালতে চলে তখন প্রহসন লাশের উপর লাশের স্তুপে আপা বসায় সিংহাসন শাপলার সাদা পাপড়ি করল লাল একরাতে শহীদ নাকি রং মাইখা শুইয়া ধরছে মরার ভান চোখ-মুখ বন্ধ রাইখা…

  •  অম্লানমুখেরা

     অম্লানমুখেরা

    চারশো জোড়া চোখের বিনিময়ে আমি আজ চক্ষুষ্মান, অথচ যাদের আত্নত্যাগে আমি জোছনা দেখি, গাই গান, সেই তাদের চোখগুলো আর কখনো এমন মায়াভরা জোছনা দেখবে না! আমার পায়ের ওপর আছড়ে পরা শীতল সমুদ্রজল কখনো সেইসব বীরদের পায়ের স্পর্শ পাবে না, যাদের চরণ সত্যের পথে নির্ভীক ছিল। আমার হাতের আঙুলে আমি প্রিয়জনদের ছুঁয়ে দেখব, অথচ তাদের হাতের…

  • আয়নাঘর

    আয়নাঘর

    বিদঘুটে রাতে জোনাকির ডাকে হঠাৎ ভেঙেছে ঘুম। ঝিমঝিম মাথায়, চোখ তুলে তাকাই, দেখি, এ কী? কোথায়? চার দেয়ালের কোণায়, মনে পড়ে সন্ধ্যাকালীন যোজনা। ওযুটা সেরে, টুপিটা পরে মসজিদর পথে যখন, বলা নেই, কওয়া নেই, মুখ চেপে তুলল গাড়িতে, করল কি তাহলে গুম? শরীরটা ব্যথা মনে পড়ে না কোনো কথা , কপালটা হয়েছে বোল্লার চাক। ঠক…

  • ইনকিলাবের দুন্দুভি

    ইনকিলাবের দুন্দুভি

    চব্বিশের কবি ঘুমিয়ে গিয়েছে মায়ের অধরে। দুর্বল হাতে তোমাদের ইতিহাস শোনাবো এই আমি; নির্মল সহজ গদ্য। দুস্তর পথে দুঃসাহসী দুরন্ত ছাত্রসমাজ নেমে আসে রাজপথে, নিরস্ত্র মেধা-সৈনিক। খাকি পোশাকে আবরাহার বাহিনী আসে ধ্বংস করতে আমাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ। আমাদের নিরস্ত্র হাতে উঠে আসে নুড়ি যেন আমরা একেকটি আবাবিল পাখি! সাঁজোয়া যানে দেখতে পাই আবরাহার একেকটি হাতি।…

  • জুলাইয়ের কবিতা

    জুলাইয়ের কবিতা

    বর্ষাকালের বৃষ্টি কি মা নেয় উড়িয়ে ধুলি? বৃষ্টি না রে, বৃষ্টি না রে জালিমের গুলি। সেই গুলিতে ভিজতে কি মা এক জীবনের সুখ? নইলে কেন দস্যি ছেলে দেয় চিতিয়ে বুক! আচ্ছা মা গো, নাকের ভেতর পাওকি মৃতের ঘ্রাণ? মৃত না রে, মৃত না রে শহীদ হওয়া প্রাণ। রক্তজলের এই শহরে সূর্য কেন বলে— পানি লাগবে,…

  • জুলাইয়ের আকাশ

    জুলাইয়ের আকাশ

    আমি দেখেছি জুলাইয়ের কালো আকাশ, যে আকাশ জুড়ে যেন ক্রোধ নেমে আসে। জানো, সে আকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল এক কণ্ঠস্বর, যে কণ্ঠ ভেসে আসছিল মসজিদের মিনার থেকে। কিন্তু জানো, সেই কণ্ঠস্বরটা না মুয়াজ্জিনের না সেই কণ্ঠে ছিল এক অজানা ভয়, কাঁপা কাঁপা ঠোঁট চিড়ে বেড়িয়ে আসছিল সাহায্যের আর্তনাদ! সে কণ্ঠ কোনো এক পথিকের, যে কিনা পথে…

  • ফিলিস্তিনি শিশু

    ফিলিস্তিনি শিশু

      একটা শিশু ফিলিস্তিনি দু’চোখ ভরা জল তবুও তার বুকে আছে শক্তি, সাহস, বল! ভাই শহীদ, বাবা শহীদ  শহীদ খেলার সাথি ঘর পুড়েছে, মন পুড়েছে কেমনে কাটে রাতি! শত শত বুলেট বোমা পাখির মতো উড়ছে শত্রুসেনার গোলার মুখে নারী-শিশু মরছে! তবুও সেই বীর শিশুটির নেই কোনো ভয়-ডর দেশটা স্বাধীন করে তবেই ফিরবে আপন ঘর!

  • ওগো দয়াময়

    ওগো দয়াময়

    পাহাড় সমান পাপ জমেছে মরণের নেই ভয় ক্ষমা করো দয়া করো ওগো দয়াময়। দুনিয়ার মোহে পড়ে কাটে রাত দিন ক্ষণে ক্ষণে বাড়ে তাই জীবনের ঋণ। দুচোখ জুড়ে অশ্রু ঝরে ভালো কিছু নেই সঞ্চয়। ক্ষমা করো দয়া করো ওগো দয়াময়। অমানুষ হয়ে রোজ পাপে ডুবে রই আমলবিহীন তবু চিন্তিত নই। মরণ হলে ঐ কবরে হোয়ো না…

  • ছেঁড়া খামে চিঠি

    ছেঁড়া খামে চিঠি

    শুকনো পাতার ছাউনি ঘেরা ছোট্ট কুঁড়েঘর মেঘ গুড়গুড় বৃষ্টি এলেই গড়িয়ে পড়ে জল প্রভাতকিরণ উঁকি দিয়ে মধুস্বরের ডাক ছায়াতরুর ঝরা পাতা সঙ্গী হয়ে থাক। বাতায়নের ছিদ্র দিয়ে বইবে শীতল হিম কচি ঘাসে জমে শিশির, খসে পড়া বিল। মিষ্টি রোদে উঠবে হেসে হলদে রঙা ফুল পরশ করে বসব সেথায় এলিয়ে দিয়ে চুল। ঢেউ খেলানো সবুজ ঘাসে…