Category: গল্প-উপন্যাস
-

১৩২ নম্বর এপিটাফ (২য় পর্ব)
ঘটনা-সংক্ষেপ: মিরা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাচ্চাদের খেলা দেখতে থাকে, কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করে তার ছেলে কেরেম সেখানে নেই। খেলার ফাঁকে কেরেম চলে যায় রহস্যময় ১৩২ নম্বর কবরের কাছে, যে কবরটির ফলকে মৃত্যুসাল লেখা নেই। কবরের ভেতরে শব্দ ও নড়াচড়া শুরু হয়, আর কেরেম সাহস করে কাছে গিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি করতে থাকে। হঠাৎ অর্ধগলিত এক হাত তাকে…
-

বার্গার
১ “রুটির মধ্যে কী দিছোছ?” “সস।” “খালি সস? আর কিছু মিশাছ নাই? অজ্ঞান করার কিছু?” জারিফ একটু হাসলো। তার চোখ দু’টো শান্ত। জগতের সমস্ত মায়া যেন নেমে এসেছে ওখানে। তার পেলব হাতে হাতকড়া মানাচ্ছেই না। কেনই বা মানাবে? হাতকড়ায় তো অভ্যস্থ নয় হাতগুলো। এই হাতে আছে জাদু, তৈরি হয় সুস্বাদু বার্গার। অনেক মানুষ খেয়েছে তা,…
-

সবুরের বিজয় দেখা
চুলের সিঁথি দেখেই বোঝা যায় সবুর একজন নম্র-ভদ্র এবং পরিপাটি ছেলে। চুলে তেল দিয়ে একপাশে শুইয়ে দেয় আর মাথার বাঁ দিকে সিঁথি করে। শার্ট আর প্যান্টে সবুরকে অনেক সুন্দর লাগে। দেখতে যেমন পরিপাটি, কথাবার্তা, নম্রতা ও ভদ্রতার দিক থেকে অন্য দশজন ছেলের থেকে ভিন্ন। গলায় গামছা বেঁধে ঝুলিয়ে বাদাম-বুট বিক্রি করে সংসার চালায় অল্পবয়সী সবুর।…
-

আব্বা
এক. পুবের বিলের ধারের বিশাল কড়ই গাছটার নিচে জনা পাঁচেক যুবকের আড্ডা। পাশেই চারটি বাইক। রায়হান ও তার বন্ধুরা প্রায় প্রতিদিনই সময়-অসময় এদিক-সেদিক বাইকে ঘুরে বেড়ায়। ইন্টার পাস করে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে প্রথম আবেদনে অনার্স ভর্তির সুযোগ মেলেনি রায়হানের। তাই এ-বছর আপাতত বিশ্রাম। সামনের বছর অনার্সের জন্য আবার ট্রাই করবে। খাওয়া-গোসলের সময় ছাড়া রায়হান তার পুরো…
-

১৩২ নম্বর এপিটাফ (১ম পর্ব)
২২ সেপ্টেম্বর, ১৮৯২ মিরা জানালায় কতগুলো হলুদ জবা। হালকা বেগুনি রঙের ফুল, এগুলোর নাম কী? হুম, সসেজ হতে সময় বেশি লাগবে না। দ্রুত যেতে হবে উলটে দিতে। বাজলামার ড্রেসিং করা হয়নি। রাতে মার্ত আজকে আগে আসবে বলেছিল, হাতে তিন ঘণ্টার মতো সময় আছে। অনেক সময়, চিন্তা নেই। সসেজ ভাজার সুবাস ঘরময় মৌ মৌ করছে। মিরা…
-

বাজনা
সময় মতো ড্রাইভারকে না পেয়ে আয়ানের কপালটা কুঁচকে আছে। ড্রাইভারকে নিচে না পেয়ে ডাকার জন্য ছাদে গেল সে। কাজ ফেলে বউয়ের সাথে সময় কাটাচ্ছে, ভাবতেই মেজাজটা বেশ খারাপ হলো আয়ানের। হাশেম ভাই প্রায় ছয় বছর যাবৎ তাদের বাসায় ড্রাইভারের কাজ করে। আগে উনি ডাকার আগেই হাজির থাকত। আজকাল উনাকে সার্চলাইট দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না।…
-

বিপদ!
টিম বিচ্ছু: পর্ব ২ মাসনুনটা স্কুলে আসছে না কয়দিন, আসলেও আগে ভাগে চলে যায়। খেলতে গেলে ও বাড়ি যায় সবার আগে, আর ইদানীং মাঠেও ওকে পাওয়া যাচ্ছে না। ওর ফোন নেই। আন্টির ফোনে কল দিয়েও পাওয়া গেল না। খেলার মাঠটা বেশ জমেছে, ওরা ৫ জন ছাড়াও আরও ৫-৬ জন রেগুলার আসে খেলতে। মাগরিবের আযান পর্যন্ত…
-

বস কেইম টু ডিনার
বাসায় আজ তুমুল ব্যস্ততা[1]। হাসান সাহেব তার বসকে ডেকেছেন ডিনারের জন্য। তিনি এবং তার স্ত্রী জেনিফার ঘাম মোছার সময়টুকু অব্দি পাচ্ছেন না। জেনিফার খুব সুন্দর করে সেজেছে। লম্বা গাউন, খোঁপা করা জটবাঁধা চুল। মুখে দেওয়া ভারী মেকআপ আস্তে আস্তে উঠে যাচ্ছে। এদিকে হাসান সাহেব সিগারেটের পর সিগারেট ধরাচ্ছেন। হাতে কাগজ কলম। এক রুম থেকে আরেক…
-

মসজিদ প্রেমী
ছোটবেলায় আমরা কম-বেশি সবাই দুষ্টুমি করেছি। মাঠে-ঘাটে, খেতে-শুতে সবখানে। যেখানে নিজেদের মতো দুষ্টুমি করার, মজা করার সু্যোগ পেয়েছি সেই জায়গাগুলোকে আপন মনে হয়েছে। সুযোগ পেলেই সেখানে গিয়েছি। বিকেল হতে না হতেই ছুটে গিয়েছি মাঠে বন্ধুদের সাথে খেলতে, পার্কে দোলনায় চড়তে বা স্লাইড দিয়ে পিছলে নামতে। দৌড়ঝাঁপ করে হাত-পা ভাঙলেও ঘরে মন টেকেনি। পাড়ার যে ভাইয়েরা…
-

এ কেমন অসুখ?
ফ্রান্স, ১৪ ই জুলাই ১৫১৮। স্ত্রেসবার্গের রাস্তায় একজন নারী অদ্ভুত ভঙ্গিতে নাচতে শুরু করলেন। সরু-কাঁচা একটি রাস্তায় উগ্রভাবে নাচতে লাগলেন ত্রোফিয়া। নাচতে নাচতে শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন, তবু নাচা থামছে না তার। আশেপাশের মানুষ অবাক হয়ে দেখছে ত্রোফিয়াকে। মানুষ ভাবছে, কোথাও তো কোনো গান বাজছে না, আর না কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে। তাহলে ত্রোফিয়া কেন নাচছে?…