সমুদ্র সৈকত

– মারইয়াম বিনতে মাসুদ (৩য় শ্রেণি, তানযিমুল উম্মাহ হিফয মাদরাসা, রাজশাহী)

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২। সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলাম। আমি, আব্বু আর আম্মু। আমরা সেখানে চার দিন ছিলাম। দুই দিন কক্সবাজার আর দুই দিন চট্রগাম। প্রথমে কাঠাল বাগান ঢাল থেকে রওনা হলাম। স্লিপার বাসে চড়ে। এটা ছিল রাতের ভ্রমণ। ভোরবেলা বাস থেকে নামলাম। আমরা প্রথমে চট্রগ্রামে নেমেছিলাম। সেখানে ওযু করে ফজরের নামায আদায় করলাম। তারপর আবার বাসে উঠে ছুটলাম সমুদ্রের উদ্দেশ্যে। 

বাস থেকে নেমেই রিকশায় চেপে পৌঁছে যাই হোটেলে। আমরা ছিলাম লাবনী পয়েন্টের কাছে। বন বিভাগের একটা রেস্ট হাউসে। সেখান থেকেই সমুদ্রের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। একটু ফ্রেশ হয়ে সমুদ্র দেখতে যাই। আমি খুব উৎসাহিত ছিলাম। কারণ এটা ছিল আমার প্রথম সমুদ্র দেখা। ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পা বাড়ালাম। সুবহানাল্লাহ! অনেক সুন্দর। 

তাড়াহুড়ো করে সমুদ্রে নেমে পড়লাম। একটা ঢেউ এসে আম্মুর সানগ্লাস নিয়ে চলে গিয়েছিল। চশমাটা নতুন ছিল। আব্বু বীচের একটি দোকান থেকে কিনে দিয়েছিলেন। কিন্তু মজার একটা ব্যাপার হলো, অন্য আরেকটি সানগ্লাস ঢেউয়ের সাথে ভেসে এলো। আম্মু সেটা পেয়ে আমাদেরকে ডাকছিল। কাছে গেলাম। আম্মু বলল, “আমার নতুন চশমা ঢেউ নিয়ে গেছে, কিন্তু পু্রাতন একটা দিয়ে গেল”। আমি এটা শুনে হেসে উঠলাম। 

সন্ধ্যা হয়ে এলো। এবার আমরা ফ্রেশ মাছ ভাজা খেতে গেলাম। আমরা চিংড়ি খেয়েছিলাম। পরেরদিন আমরা গেলাম হিমছড়ি। আমরা হিমছড়ি পাহাড়ে উঠেছিলাম। হিমছড়িতে একটা মজার ফল খেয়েছিলাম। ফলটার নাম আনারকলি। লেবুর মতো দেখতে। এরপর আমরা আবার ফিরে এলাম। সন্ধ্যার পর গেলাম শুটকি কিনতে। আমার খুব গন্ধ লাগছিল। সেখান থেকে আম্মু কিছু শুটকি কিনলেন। সেখানেও একটা নতুন জিনিস দেখলাম। সেটার নাম ছিল বালাচাও। আব্বু আমাকে একটা খেলনা বীচ সেট কিনে দিয়েছিল। বীচ সেট খেলনাটা খুব সুন্দর ছিল। 

বন্ধুরা, তোমরাও সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আর আল্লাহর সৃষ্টি সমুদ্র দেখে শুকরিয়া আদায় করবে।


Posted

in

by

Tags: